বাতাবীবনের ছায়ায় ফিরে যাই বারবার।
জলধোয়া পুদিনার পাতায় চেহারা দেখে সন্ধ্যার তুলসী।
বাতাবীলেবুর গন্ধে মাতোয়ারা সে দুপুর।
জ্বর কাকে বলে জানি না তখনও।
দারুণ দুঃখ জন্মেছিল বহুকাল আগের এক জিওমিটারের মৃত্যুতে।
এসব বই এ বাড়িতে কে রাখে?
মা গোসল করিয়েছেন খানিক আগে।
কাজল পরিয়ে দিয়েছেন কপালে।
মাকে ভালো লাগে শাড়িতে।
মায়ের শরীরের ঘ্রাণ যেন জুড়ে আছে লেবুবন।
তখনও জ্বর কী জিনিস, জানি কি?
জিওমিটার আত্মহত্যা করেননি, মারা গেছেন পরে গিয়ে সিঁড়িতে।
সেখানে ইঁদুর ছিল।
দস্তয়েভস্কিই কি লিখেছেন এমন কথা?
আমি ছাড়া কবিদের মাঝে নন-ইউক্লিডিয়ান জিওমেট্রি আর জানে কে?
মা বই পড়া পছন্দ করেন না।
অথচ বইসমেত বাতাবীবনে শুইয়ে দিয়েছেন।
মা এসেছেন ভ্রান্তির ছলে।
আমি তাঁর কাছ থেকে পালাতে চাই।
অথচ তিনি খানিক আগে গোসল করিয়েছেন নিমপাতা-ধোয়া জলে।
কপালে দিয়েছেন কাজল।
সেদিন খুব গরম হয়েছে শরীর।
তুমি বলেছ, পুরুষ অসুন্দর, অথচ নারী কী সুন্দর!
আমরা নারী-পুরুষ বর্ণনা করতে পারি কি?
পুরুষের ঝোলানো ধোন তোমার ভালো লাগে না।
তোমার কি তা বাঁদরের লেজের মতো মনে হয়?
অথচ যত বড় হয়েছি, ততই লেগেছে ভালো।
জিওমিটার পড়ে আছেন সিঁড়িতে।
কী দারুণ সুন্দর মৃতদেহ।
আমরা কি নারী আর পুরুষ বর্ণনা করতে পারি?
ধোন ছাড়া, স্তন ছাড়া?
আমরা কি নারী-পুরুষ বর্ণনা করতে পারি?
লাগানো ছাড়া?
ভালো কিছু শব্দ বোধ হয় খুঁজে দিতে পারো তুমি।
তাতে কি এটা পাল্টায় যে পুরুষ কেবল নারীকে আদরই করেছে?
আঘাত কি দেয়নি সে আদরের নামে?
ব্যাপারটা এরকমই যে তুমি নারী আর পুরুষকে দেখতে গিয়ে আবিষ্কার করেছ…
আর তোমার তাতে ভালো লাগছে না।
কিন্তু দিন শেষে এটা লাগানোই।
তোমার প্রেমিক হয়তো আদরের কথাই বলে।
তুমি বুঝি কখনো পুরুষের মুঠোয় গেঁথে যাওনি!
অথচ তুমি বলছ, পুরুষ অসুন্দর।
তুমি হয়তো জ্বরগ্রস্ত সময়ে হ্যামকে শুয়ে শুয়ে জিওমিটারের মৃত্যু নিয়ে ভাবো না।
অথচ তুমি চাইলে স্নান সেরে বাতাবীবনমাঝে হারিয়ে যেতে পারতে।
No comments
Comments feed for this article
Trackback link: https://nadsnotes.com/বাতাবীবন/trackback/