October 2026

You are currently browsing the monthly archive for October 2026.

শাহী কোনো বাগিচা নয়,
অথবা নয় কোনো গুলশান-শালিমার রাজোদ্যান।
বরং নেহায়েতই সাদাসিধে,
অযত্নে বেড়ে ওঠা পুষ্পগুল্মের আয়োজন।
অপ্রস্তুত, ঝাঁকড়া—তবে বেয়ারা বুনো নয়।
তার ছত্রে ছত্রে ছত্রা।
কোথাও সবুজের মাঝে সাদা,
গোলাপি আর লাল।
ফুলেদের মেঠোপনা, অথচ মাঠ নয়—বাগান।

পুরোনো দালানের সাথে বসবাস,
ঝোপ, মস, ফাঙ্গাসের সাথে সহবাস—
তবে ঝাড় নয়।
দাই পিঁপড়া আর প্রজাপতির নিবিড় আবাসন।

সেইখানে গেলে দেখা যায়
ক্লান্তিহীন ক্লান্ত সময়—
প্রজাপতির পাখায় পাখায়,
সবুজের স্থির পাতায়,
ঝিঁঝিগ্রস্ত গাছেদের
সন্ধ্যার মতো নীরব খয়েরি ডালে।

Tags:

আমি আজ তোমাকে বলে যেতে চাই
আমার মৃত্যুর গভীরতম দৃশ্যের কথা—
আমি তোমাকে বলে যেতে চাই—
আমার মৃত্যু কারাগারের লোহার খাঁচায় হলেও,
আশাহত হয়ো না।

সেখানে হাজির হবে পাহাড় আর সাগর;

আমার মৃত্যু হবে পাহাড়, সাগর আর আকাশের নীলের মাঝে।
আমার রক্তকেশী স্রোত
আমার কলারবোনে ঝুলে থাকবে—
বেটোফেনের স্কার্ফের মতো।

আমার মৃত্যু হবে—
নর্ম্যান্ডির উপকূলে, নীল আকাশের দিকে তাকিয়ে।
আমি দেখি অজস্র সাদা বক,

সাদা বক উড়ে যায় মেঘের দেশে।

আমার পিস্তল-হোলস্টার উড়ে গেছে—
আততায়ীর মাউজারের লক্ষ্যভেদে।

আমার মৃত্যু হবে অযোধ্যায়—
নীপবন মাঝে,

গৌতম বুদ্ধের মতো
স্থির হ্রদে সাঁতার কাটা—
রাজহাঁসের মতো সুন্দর।


পাদটীকা: কবিতাটি ৮ জুলাই ২০২৬, ব্লাড ইনফেকশনে শয্যাশায়ী অবস্থায় ডিকশন দেওয়া হয়; লামিয়া তা লিখে রাখেন।

Tags:

লোকটার উপর রাগ চড়ে ছিল মেট্রোতে ওঠার সময় থেকে। বা, বলতে পারেন যখন প্যাসেঞ্জার কিউতে দাঁড়িয়ে ছিলাম তখন থেকেই। মেট্রো স্টেশনের কথা বলছি। আপনার নিশ্চয় মেট্রোতে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা আছে, দুটো তীরচিহ্ন আছে দু-সাইডে—ইনওয়ার্ড অ্যারো। অর্থাৎ বগির ভেতরের দিকে নির্দেশ করছে। ওঠার জন্য ওই দুই অ্যারো লাইন ধরেই দাঁড়াতে হয়। আর আউটওয়ার্ড একটা অ্যারো আছে মাঝ বরাবর। এই লাইনটা যারা বের হবে তাদের জন্য।

মূর্খ লোকটা এই বের হওয়ার লাইনটার মাঝেই দাঁড়িয়ে ছিল। তার চোখে সস্তা সানগ্লাস। দেখেই বোঝা যায় রাস্তার পাশ থেকে কেনা। লোকটার পরনে কমলা রঙের টি-শার্ট আর জিন্স প্যান্ট। যা হোক, সে ঠিক পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা মহিলার সাথে কথা বলছিল।

এ ধরনের অসভ্য মানুষদের আমার পছন্দ না, এরা পাবলিক লাইনে দাঁড়িয়ে জীবনের যাবতীয় গল্প করে। তার চেয়েও বিরক্তিকর বিষয় হলো ওটা ওদের দাঁড়ানোর লাইনও নয়। এদিক দিয়ে প্যাসেঞ্জাররা বের হবে। আগে বের হবে, পরে আমরা ঢুকব। বের হওয়ার রাস্তা বন্ধ থাকলে কীভাবে আমরা ঢুকব?

কোনো সিস্টেম মেইনটেইন করে না এসব লোকজন। অসভ্য।

তবে লোকটার প্রতি মূল রাগ শুরু হলো ভেতরে ঢোকার সময়। সাথে থাকা মহিলাকে সামনে যেতে দিয়ে লোকটা যেন পুরো গেটটা দখল করে কচ্ছপের গতিতে ভেতরে ঢোকা শুরু করেছে। যেখানে সেকেন্ডের কিয়দংশে সিটগুলো সব ভরে যাচ্ছে, সেখানে মূর্খটার পাছা যেন চলছেই না।

অবশ্য সেই রাগ থেকেই যে খুন করেছি, ব্যাপারটা তা না। হয়তো খুনই করতাম না যদি না লোকটার সাথে আমার আবার দেখা হতো। কিন্তু হলো।

নেমেছিলাম শাহবাগ স্টেশনে। লোকটা আর ওই মহিলাটা নামল ওখানেই। কার্ড সুইপ করে স্টেশন থেকে বের হওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। দেখলাম, লোকটা মহিলাটাকে সঙ্গে নিয়ে কোত্থেকে এসে লাইনের এক্কেবারে সামনে সরাসরি ঢুকে গেল!

এরপর একটা বুকশপে ঢুকেছিলাম। খানিক বাদে লোকটা আর ওই মহিলা এসে ঢুকল। তারপর শুরু হলো গুজুর গুজুর, ফুসুর ফাসুর। ফোন বের করে—ক্লিক ক্লিক। দুটো ছবি দিয়ে দেবে ফেসবুকে। কোয়ালিটি টাইম, যত্তসব।

খানিক বাদে ওয়াশরুমে গেছি। দেখলাম, একটা বেসিন নেই। শুধু হোল্ডার স্ট্যান্ড দুটো রয়ে গেছে। হিশু সেরে হাত-মুখ ধুচ্ছিলাম। আয়নায় দেখলাম, লোকটা ঢুকছে। একা।

এবার কমলা গেঞ্জিটা দেখেই মেজাজ বিগড়ে গেল। লোকটার পেছনে এসে দিলাম এক ধাক্কা। বেশ জোরেই দিয়েছিলাম। হোল্ডার স্ট্যান্ডগুলোর একটা লোকটার পেটের মধ্যে ঢুকে গেল। ভোঁতা জিনিস। কিন্তু এফেক্টিভলি পেট পাংচার করে দেবে, ভাবতেই পারিনি।

“ভালো বলেছেন,” বললেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

“আপনি এখন যান। সবাইকে গল্পটা বলার দরকার নাই। সংক্ষেপে বলবেন, পা পিছলে পড়ে গেছিল মানুষটা। কমলা গেঞ্জি আমারও পছন্দ না।”

Tags: , , ,